লোড হচ্ছে...

রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই প্রবাসী জামাল উদ্দিনের মৃত্যু

অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনের মৃত্যু, যাঁকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল

 

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

 

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা নিয়ে আলোচনায় আসা প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

জামাল উদ্দিনের দুটি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। গত ১ আগস্ট রাতে তাঁকে কালমেঘা এলাকায় পৈতৃক ভিটার কাছের একটি সড়কে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয় লোকজন তাঁকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর ভাতিজি তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

 

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসা

 

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ আগস্ট স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার তাঁকে ভাতিজির বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

ভাতিজির স্বামী শাহ আলম বলেন, তাঁদের বাড়িতে একটি মাত্র ঘর। তাই জামাল উদ্দিনকে বারান্দায় রেখে সেবাযত্ন করা হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোসহ সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

 

১২ বছর সৌদি আরবে ছিলেন

 

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় স্ত্রীর পরিবারের কাছে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন।

 

জামালের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, প্রবাসে থাকার সময় উপার্জন করা অর্থের প্রায় সবই তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানেরা তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাননি।

 

তবে আবদুল জলিলের এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

স্ত্রী যা বলেছিলেন

 

জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে গত ৩ আগস্ট তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছিলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তাঁদের তালাক হয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য ছিল, আইনগতভাবে জামাল আর তাঁর স্বামী ছিলেন না। এ কারণে তাঁকে গাড়িতে করে তাঁর নিজের গ্রামের বাড়ির এলাকায় রেখে আসা হয়েছিল।

 

তবে অসুস্থ একজন মানুষকে রাতের বেলা রাস্তায় রেখে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

 

দাফনের প্রস্তুতি

 

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, জামাল উদ্দিনের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে টাকা তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দাফনের ব্যবস্থার জন্যও গ্রামবাসীর কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

 

দীর্ঘ ১২ বছরের প্রবাসজীবন শেষে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে জামাল উদ্দিনের শেষ সময় কাটে স্বজন ও স্থানীয় মানুষের সহায়তায়। তাঁকে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ, তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব এবং প্রবাসে উপার্জিত অর্থ নিয়ে স্বজনদের বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

আজকের নিউজ বাংলা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।

Leave a Comment