লোড হচ্ছে...

ময়মনসিংহে ৫ পরীক্ষার্থীর জন্য ৭ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস করেনি কেউ

ময়মনসিংহে ৫ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ৭ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস করেনি কেউ

 

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ | প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ৮:২৩ PM

 

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়া ও মুক্তাগাছার দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

 

ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে সাতজন শিক্ষক থাকলেও গণিত বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় পদটি বর্তমানে শূন্য।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়মিত ছিল না। অভিভাবকদের নিয়ে একাধিকবার সভা করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

 

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ফলাফলের এই পরিস্থিতির দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আয় কম হওয়ায় শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষকদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করাও কঠিন ছিল।

 

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

 

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শাখা বন্ধ, তবুও এসএসসি পরীক্ষায় ৪ শিক্ষার্থী

 

মুক্তাগাছা উপজেলায় আরও একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চারজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

 

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখায় ২০২২ সাল থেকেই নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনহীন এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে এবার চারজন শিক্ষার্থী মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা বলেন, মানবিক বিবেচনায় আগের অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে চলতি বছর চারজন শিক্ষার্থী কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

 

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ

 

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ জানান, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়েছে। তাই এর দায় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

 

তিনি বলেন, নিজস্ব মাধ্যমিক শিক্ষার্থী না থাকা অবস্থায় অন্য একটি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি তথ্য গোপনেরও শামিল।

 

ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তলব করা হবে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।

 

ময়মনসিংহের এই দুই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের নিউজ বাংলা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন।

Leave a Comment