রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
আজকের বাংলা নিউজ ডেস্ক | ৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

দেশের আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও গণভোটের ফলাফল, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
‘জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না’: অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী হওয়ার পর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ১১ দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা, পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেই জোটের নেতারা সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট এবং দেশের জনগণের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। জনগণের পাশে থেকে তাদের স্বার্থ রক্ষায় সবসময় কাজ করব।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোটের অবস্থান
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১টি দল এবার একটি অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণভোট এবং জুলাই সনদসহ বিভিন্ন বিষয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য রয়েছে, তার ধারাবাহিকতাতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। জোটের প্রত্যাশা ছিল, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংস্কারকৃত সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।
তবে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেসব বিষয়ও ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে আলোচনায় এসেছে।
বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার নজির
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী দল হিসেবে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের প্রার্থিতা ঘোষণার ফলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংসদে দলগুলোর অবস্থান
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৬৮টি আসন পেয়েছে।
জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
আজকের বাংলা নিউজ | জাতীয়











