
মুক্তাগাছায় নির্বাচন ও অনিয়ম নিয়ে আলোচনা: পরিবর্তনের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ সাহেবের সাথে এক আলাপে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে. সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওর তথ্যানুযায়ী, নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে.
আলোচনায় প্রকাশ পায় যে, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভোটাররা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন. নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা, প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর ভোট না দেওয়া এবং পরবর্তীতে বয়স্ক ভাতা ও টিসিবির কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে. বিশেষ করে, কার্ড দেওয়ার সময় স্বজনপ্রীতি এবং হয়রানির শিকার হওয়ার নানা তথ্য সামনে এসেছে.
একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ( হঠাৎ দেখা হলো ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপহেলার সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ সাহেবের সাথে। তিনি আমার সাথে চা খেতে খেতে গল্প করলেন যে, চেয়ারম্যান নির্বাচনটা যে এত খারাপ হয়ে গেছে, আপনি কল্পনা করতে পারবেন না, কল্পনা করতে পারবেন না। আমি বারবার বুজিয়ে বলি যে, আপনাদের এবার আমাকে ভোটটা দেন, যে নির্ভেজাল একটা ইউনিয়ন উপহার দিব। সে হাত টানে নাই, গা টানে নাই। তাতে হেনসিং করতে যাই, এবার জাকিরমারে হাতে জাকির মারে। সে বলল, ‘১০ পয়সা লোক ভাই, এক টাকার ভাব ধরে, আত্মাটা ফাইটা যা, ফাইটা যা।’ আমি আসছি সততা, প্রকিংসাবের পক্ষে মাঠটা তৈরি করার জন্য, আর তারা এরকম ধরনের ঘটনা ঘটাইছে। সে যখন এক বছর দায়িত্ব পালন করছে, তখন আবার মাঠে সবাইকে নিয়ে আসছে। আইসা বলতেছে, ‘কে কে কাঠ পাইছেন, সবাই হাত উঠান।’ একে একে জিগাইলো, ‘স্যার একলা আপনি কাঠ পাইছেন?’ ‘হ বাবা আমি বয়স্কভাতা কাঠ পাইছি।’ ও তোমার পিছে আবার কুলসুম খালা হাত উঠাইছে। ‘খালা তুমি পাইছো?’ কয় ‘না আমি তো কাঠ পাই নাই।’ কয় ‘তুমি কেন পাও নাই জানো? তুমি নির্বাচনের আগে আমার কাছে দুই হাজার টাকা নিছিলা, একটা ভোটও তুমি দেও নাই।’ তারপর আবার জিগাইলো, ‘রেবেকা আপা, আপা আপনি কি টিসিবির চালের কাঠ পাইছেন?’ ‘হ বাবা আমি পাইছি।’ আমি পাইছি। ঐ যে সাতে আবার আসিয়া ফুফু আছে, ফুফু তুমি পাইছো? কয় ‘না ভাই আমার তো দিলেন না।’ আপনি যে নির্বাচনের আগে আপনি সব নিয়ে গেছেন, এইজন্য আপনি পাচ্ছেন না। এইজন্য অনেকেই আপনারা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চেয়ারম্যানদের এরকম ধরনের নির্বাচনের ঐ বিশ দিন আপনারা জ্বালাই ফেলায় দেন, টর্চারিং করেন। কেন ভাই? এরকম করেন কেন? আপনারা একটা বড় ইমানের প্রতীক, ইনসাফের প্রতীক, রেমার্ক সম্পদ। আপনারা একটা ভোটের দ্বারা যে একটা খারাপ লোক পাস করে, যতগুলো খারাপ কাজ করবে, যত চাল চুরি করবে, ডাল চুরি করবে, তেল চুরি করবে, যত বয়স্ক বা তাতিকাতিকাত বা তাতিকাট টাকার বিনিময়ে দিবে, এই পাপের বোঝা তো আপনার ওপর কাল দিতে হবে। হেপের হবে না, হেপের হবে না। কোন ধরনের দরবার সালিশ না, একটা ঘুষ খাওয়া হবে না। সরকারি টিউলিপ আসছে টাকা নিবেন? নো! টিসিবির কার্ড, বয়স্ক তো দরকার নাই, নিবন্ধন সরকারি ফিস যে আছে ১০টা, ২০টা, তাই দিয়ে নিবেন। তাই দিয়ে নিবেন। এখন সচেতন হন, দুই নং বড়গ্রাম ইউনিয়ন মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। যত আছেন আপনারা, আপনারা সতর্ক হয়ে যান। আর নয় পুরাতন, এবার হবে নতুন। ধন্যবাদ।”)
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ২ নম্বর বড়গ্রাম ইউনিয়নের ভোটার ও সাধারণ মানুষকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে. দুর্নীতি ও অনিয়মকে পেছনে ফেলে নতুন নেতৃত্ব ও সৎ পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বলা হয়েছে, “আর নয় পুরাতন, এবার হবে নতুন”.












