নেত্রকোনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে ৫ লাখ টাকা জরিমানা; তদন্তে পুলিশ
আজকের নিউজ বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থানায় মামলা না করে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। সালিসে অভিযুক্তকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সালিসের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি আফনেরার লগে থাহন লাগবো… ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।” পরে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের পা ধরে ক্ষমা চান।
ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিসে করাকে আইনবহির্ভূত বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। সে সময় স্কুলছাত্রীটি বাড়ির উঠানে রান্না করছিল এবং তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। পরিবারের দাবি, এই সুযোগে রিপন তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রিপন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও পরে এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস অনুষ্ঠিত হয়।
সালিসে যা সিদ্ধান্ত হয়
সালিসে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফজলুর রহমানের বক্তব্য
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় তারা প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল। পরিবারের মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকায় এলাকাবাসী সালিসে বসেন। পরে পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
পুলিশের বক্তব্য
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ দায়েরের জন্য ভুক্তভোগীকে পরিবারের সঙ্গে থানায় পাঠানো হয়েছে। সালিসে উপস্থিত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত সম্পর্কে
রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে খোলা তার ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে রিপন মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এটি একটি অভিযোগভিত্তিক ঘটনা। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হি

সেবে বিবেচিত হবেন।












